21 Sep 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

পাতাঃ বিশেষ সংখ্যা

আমার স্মৃতি থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫

Shakh-Mujibor20150815080900
জিয়াউদ্দিন লালা: ১৯৭৫ ইং ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকশাল ঘোষণা মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাজার বছরের সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার রূপরেখার ঘোষণা দেন। সাথে সাথে তাঁর নিজ হাতে গড়া আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ সহ সকল দলকে বিলুপ্ত করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় দলের ঘোষণা এবং সাথে সাথে স্বাধীনতা বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেন। নবগঠিত জাতীয় দলের প্রধান (চেয়ারম্যান) বঙ্গবন্ধু নিজে হয়ে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক, সরকারী বেসরকারী, আমলা, কর্মচারীয়, পেশাজীবি সহ সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে বাকশালের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার আহবান জানান।

দেশের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক তাঁর এই আহবানে সাড়া দিয়ে প্রতিটি ছাত্র, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বাকশালের সাথে একত্রিবুত হওয়ার পক্ষে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে বাকশালের ছাত্র ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ শহিদুল ইলামকে বাকশাল ছাত্র ফ্রন্টের প্রধান (সম্পাদক) নিযুক্ত করা হয়। সেই সাথে আমিও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হই।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট আমরা ৫০/৬০ জন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কিছু কমিটিও আওয়ামীলীগের কিছু তরুণ নেতাকর্মীসহ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। উদ্দেশ্য বাকশাল প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অনুমতি নিয়ে ছাত্রফ্রন্টের সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম সিলেট জেলা ছাত্রফ্রন্টের সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন। ১৩ই আগস্ট ১৯৭৫ বিকেলে ঢাকায় পৌছাই। বাকশালের প্রতিটি ফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক জেলার কেন্দ্রীয় নেতার দায়িত্বে ছিল। সেই হিসেবে সিলেটের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ আমাদের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাতের জন্য ১৫ই আগস্ট সকাল ৯ টায় পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিল।

যা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম এবং আব্দুস সামাদ আজাদ সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। আমরা যারা সিলেট থেকে এসেছি তাদের মধ্যে অনেকেই সিলেট জেলার সম্পাদক হওয়ার জন্য আগ্রহী। যার মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবরুল হোসেন বাবুল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অহিদুল ইসলাম তোফা, সিলেট সরকারী কলেজের ভিপি আবু হোসেন, সিলেট ইন্টারমেডিয়েট কলেজের ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

আমরা সকলেই সিলেট থেকে এক সাথে এসেছি এবং ঢাকার কাকরাইল আশা হোটেলে রাত্রিযাপন করে পরদিন ১৪ই আগস্ট রাতে কৃষিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ এর মিন্টু রোডের বাসায় প্রাথমিক আলাপ আলোচনা করার জন্য বৈঠকে বসি। তিনি তাঁর বাসায় আমাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেন। খাওয়া দাওয়া শেষে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হয়। সে আলোচনায় আমরা ছাত্রলীগকর্মী ছাড়াও অনেক বাকশাল নেতা উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে আব্দুর রহীম এমপি, সিরাজ উদ্দিন আহমদ, বাকশাল থেকে একমাত্র এমপি আশরাফ আলী, দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল, এডভোকেট শাহ মোদাব্বির আলী, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহ আজিজুর রহমান, নজির আহমদ চৌধুরী, মতিউর রহমান (সাবেক এমপি সুনামগঞ্জ) সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় পরদিন ১৫ই আগস্ট সকাল ৯ টার মধ্যে আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে ৩২ নম্বরে পৌছাব। সেখানে আমাদের জন্য ১ ঘন্টা সময় নির্ধারিত ছিল। এই ১ ঘন্টার মধ্যে সামাদ আজাদ ১৫/২০ মিনিট, আব্দুর রহিম ১০/১৫, শেখ শহিদ আজাদ ৫/১০ এবং আমিও ৫/১০ মিনিট সিলেট সম্বন্ধে বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর সামনে উপস্থাপন রবো। এরপর বঙ্গবন্ধু তাঁর দিক নির্দেশনা আমাদের দেবেন।

আমরা আব্দুস সামাদ এর বাসায় বসে যা যা ঠিক করেছি এবং সকালে যারা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যাবে এর একটি কাগজে লিখে দুই কপি করে রাতের মধ্যে এক কপি বঙ্গবন্ধুর পিএস রফিকুল্লাহ চৌধুরী (বর্তমান স্পীকারের পিতা) কাছে এবং এক কপি ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম এর কাছে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়। আমি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেরাত ১ টার দিকে বাসায় ফিরে আসি এবং আশরাফ আলী এমপি হোস্টেলে পৌছানোর জন্য মটর সাইকেলে রওয়ানা দেই। বাকী সবাই আশা হোটেলে রাত্রি কাটানোর জন্য চলে যান। শেরে বাংলা নগরে এমপি হোস্টেলে আশরাফ আলী রেখে আমি ও আবু তৈয়ব (আমেরিকা প্রবাসী) ফিরে আসি। তখন রাত প্রায় ২ টা। ঢাকা শহর নিস্তব্ধ। ফার্মগেট এলাকা ২/৩টি দোকান খোলা আছে আমি ও আবু তৈয়ব পানি খাওয়ার জন্য মটর সাইকেল থেকে নামি।

২/১ মিনিটের মধ্যে ২/৩ জন লোক একটি গাড়ী থেকে নেমে এসে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং আমরা এতো রাতে এখানে কেন বলে মোটামুটি কড়া সুরে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। প্রথমেই প্রতিবাদ করতে চাইলে তারা নিজেদেরকে ডিজিএফআই এর লোক বলে পরিচয় দেয় এবং বলে শেখ মুজিব সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন যার জন্য তারা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল করছেন। তখন আবু তৈয়ব আমাকে কথা না বাড়াতে বলে। আমরা হোটেলে চলে আসি। আমরা সকলে হোটেলে গাদাগাদি করে শুয়ে আছি। সকাল হয় হয় এমন সময় আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু আশা হোটেলের পাশে এক মেসে থাকতেন।

দুইজনের বাড়ী সিলেটের কুলাউড়ায়। একজন হেলালুর রহমান বর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতা অন্যজন ফারুক আহমদ বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তারা দুইজনই হোটেলে এসে আমাকে ডেকে তুলে জানায়, পার্শ্বের মন্ত্রী পাড়া থেকে অনেক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রথমে আমি বিষযটি গুরুত্ব দেই নাই। পরে বিষযটি আরো গুরুত্ব সহকারে বললে আমি বিষযট বুঝার চেষ্টা করি। ফজরের আজান হয় এমন সময় আমি ও আবু তৈয়ব সইফুল আলমের মটর সাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আব্দুস সামাদ আজাদের বাসায় যাই।

বাসায় যথারীতি পুলিশ গার্ড আছে। আমাদেরকে বাসার ভেতরে ঢুকতে গার্ডরা কিছুই বলে নাই। ভেতরে ঢুকে দেখি সামাদ আজাদ দুতলায় পায়চারী করছেন। আমাদের দেখে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তোমরা কি জানলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। উত্তরে আমরা গুলির শব্দ শোনে এসেছি বলে জানালাম এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রথম খবর আমরা তার কাছে থেকেই জানলাম। তখন সামাদ সাহেব গাড়ী চালাতে পারি কি না জিজ্ঞাসা করলে আমি হ্যাঁ বলতে তিনি লুঙ্গি পরে নীচে নেমে আসেন। আমি গাড়ী চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিলে আমার হাত কাঁপছিল। তখন গাড়ী চালানোর মত মন মানসিকতা আমার ছিল না। ঐ সময় বাসার বারিন্দায় আমাদের এক সহকর্মী মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন গোরাকে দেখতে পাই এবং তাকে গাড়ী চালানোর অনুরোধ করি।

সে সময় সে গাড়ী চালাতে আসে। সামাদ আজাদ তখন গাড়ী থেকে নেমে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং পকেট থেকে কিচু টাকা বের করে আমার হাতে নিয়ে বলেন, তোমরা যারা সিলেট থেকে এসেছো এখনই নিরাপদে চলে যাও এবং তার নিজের ব্যাপারে বলেন, ওরা যখন বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছে যদি আমাকে (আব্দুস সামাদ আজাদকে) মেরে ফেলে তাকে তার কোন আপত্তি নাই। তিনি পালাবেন না। যে বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ বানিয়েছেন, আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন, তাঁকে যে দেশে কুলাঙ্গাররা মারতে পারে সে দেশে তার বাঁচার কোন আগ্রহ নেই।

আমাদেরকে চলে যাওয়ার কথা বলে বাসার উপর তলায় চলে যান। আমরা সামাদ আজাদের বাসা হয়ে আমরা সিলেটের আরেক নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর বাসার দিকে রওয়ানা হই। পথে মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ এর বাসার সামনে মেইন রোডে সেনাবাহিনীর দু’টি এ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানো। সেনা পোষাক পরা কিছু লোক একটি রক্তাক্ত দেহ স্টেচার থেকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলছে। ততক্ষণে এ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানো। সেনা পোষাক পরা কিছু লোক একটি রক্তাক্ত দেহ ষ্টেচার থেকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলছে। ততক্ষণে এ্যাম্বুলেন্সটি আমরা অতিক্রম করেছি।

পিছন দিকে তাকিয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলে আবু তৈয়ব আমাকে পিছনে তাকাতে বাধা দিয়ে বলে সেনারা যেন বুঝতে না পারে বিষয়টি আমরা দেখছি, তখন ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। গাড়ী সাহেবের বাসায় গিয়ে দেখি উনি বাসার উপর তলায় বারান্দায় বসে কান্নাকাটি করছেন। আমাদেরকে দেখে জড়িয়ে ধরে আরো উচ্চ স্বরে কান্নাকাটি শুরু করেন। ২/১ মিনিটের মধ্যেই তার ফোন বেজে উঠে। তার ফোন আলাপে আমরা বুঝতে পারলাম তিনি খন্দকার মোস্তাক আহমদের সাথে আলাপ করছেন। ফোন রেখে তিনি আমাদেরকে জানালেন, খন্দকার মোস্তাক সাহেব তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ী পাঠাচ্ছেন। তখন আমি গাজী সাহেবকে বললাম, আপনার নিজের তো গাড়ী আছে খন্দকার মোস্তাক াহেবের গাড়ীর দরকার কি? গাজী সাহেব উত্তরে বলেন, নিরাপত্তার জন্য আর্মি গাড়ী পাঠাচ্ছে।

যাতে রাস্তায় কোন অসুবিধা না হয়। আমার গাড়ী আসছে জেনে আমরা আর দেরী না করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি। উদ্দেশ্য ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে যাওয়া। রাস্তার কলাবাগান সেখানে শেখ শহিদ ভাইয়ের বাসা। তার খোঁজ নিতে বাসায় ঢুকে দেখি উনার বড় বোন ক্রন্দনরত অবস্থায় বারান্দায় বসে আছেন। এবং বাসার ভেতরে জিনিসপত্র তছনছ করা। শহীদ ভাইয়ের বোন আমাদেরকে চলে যেতে বলেন এবং আরো বলেন, শহিদ শ্বশুড় বাড়ী ছিল তাকে না পেয়ে বাসার সবকিছু ভাংচুর করে চলে গেছে এবং সে ভালো আছে।

আমরা কলাবাগান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর যাওয়ার জন্য যখন মীরপুর রোড পাড়ি দিব ঠিক তখন টহলরত একজন সেনা সদস্য আমাদেরকে নামিয়ে আমার বুকে ষ্টেগান ধরে অকথ্য ভাষার গালাগালি দিয়ে ৩২ নম্বর রাস্তার মাথায় একটি ট্যাঙ্গ দেখিয়ে বলে দেখছিস না তোর বাপের কিছু অবস্থা। তখন আমি নিজেকে চা স্টলের একজন কর্মচারী পরিচয় দিলে ছেড়ে দেয়। এবং এদিকে যেতে বারন করে তখন সকাল প্রায় ৬ টা। আমি তখন এমনবাবে নার্ভাস হয়েছি যে, মটর সাইকেল চালানোর ক্ষমতা প্রায় হারিয়েছিলাম। তখন কোনভাবে ধানমন্ডির ঢুকে পড়ি। বাসায় ঢুকে একজন বয়স্ক মহিলাকে পাই। উনি আমাদের অবস্থা দেখে ঘরের ভেতরে বসতে বলেন, এবং উনার এক গৃহকর্মীকে আমাদেরকে কিছু খাবার দিতে বলেন। তখন আমরা জানতে পারলাম ঐ বাসার মালিক কয়ছর রশিদ চৌধুরী (হুমায়ুন রশিদ সাহেবের ভাই) এবং মহিলা চৌধুরী সাহেবের মা আমরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে গেলে আবার মটর সাইকেল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাই।

গিয়ে দেখি সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল যার জন্য শত শত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। নীলক্ষেত মোড়ের চায়ের দোকানগুলি যথারীতি খুলেছে। সকাল ৭ টায় বেতার কেন্দ্র খোলার সাথে সাথে মেজর ডালিম ঘোষণা করেন শেখ মুজিবকে হত্যা করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই খন্দকার মোস্তাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। রেডিওতে ঘোষণার সাথে সাথে নীলক্ষেত এলাকার মানুষ হতভম্ভ হয়ে ছুটাছুটি আরম্ভ করে। পুলিশ বাহিনী তাদের নিরাপত্তা তুলে নিয়ে যে যেভাবে পারে পালাতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় সারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। প্রত্যেকটি হল থেকে ছাত্ররা চলে যেতে থাকে যার যার সুবিধা মতো স্থানে। তখন সিলেটের ২/৩ জন ছাত্রলীগ কর্মী রোকিয়া হলে থাকতেন, তাদের স্থানীয় অভিভাবক আমি ছিলাম। তাকে বের করে নিতে রোকিয়া হলের সামনে আমার কিছুক্ষণ উপেক্ষা করতে হয়েছিল। তখন সকাল প্রায় ৭ টা। দেখতে পেলাম একটি সাধারণ ট্রাকের উপরে একটি এলএমজি বসানো ও ২/৩ জন সেনা সদস্য দন্ডায়মান এবং ট্রাকের পিছনে একটি মার্সেটিজ কারের পিছনে খন্দকার মোস্তাক বসা এবং সামনের দিকে যাচ্ছে। বেতার কেন্দ্রে গিয়ে মোস্তাক নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ও সারা বাংলাদেশে কারফিউ জারি করে। চরম বিশ্বাস ঘাতকতার মধ্য দিয়ে বাংলার ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সুচনা হয়।

হোটেলে ফিরে দেখি উপস্থিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা কান্নায় ও বিষন্নতায় এমনভাবে পর্যদস্ত এরই মধ্যে আমরা জানতে পারি বঙ্গবন্ধুর ৮ বছরের ছেলে রাসেল সহ তাকে ও তার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তস্বত্বা স্ত্রী আরজু ভাবীকে। হত্যা করা হয়েছে আব্দুর রব সেরনিয়াবতের পুরো পরিবারকে। উপস্থিত আমরা সকলেই তখন পরবর্তী নির্দেশনার উপেক্ষায় ছিলাম। আমি তখন আমার সাধ্যমত উপস্থিত সকলকে পরিস্থিতি বুঝাবার চেষ্টা করলাম এবং সামাদ সাহেব যে টাকা দিয়েছিলেন সে টাকা যার যার প্রয়োজন তাদেরকে কিছু কিছু দিলাম, যে যেভাবে পারে হোটেলে ছেড়ে নিরাপদে চলে যেতে বললাম।

আমি বাবরুল হোসেন বাবুল, অহিদুল ইসলাম তোফা, আবু তৈয়ব সহ ৪/৫ জন আবু তৈয়বের মামা আব্দুল মোতালিব সাহেবের তেজপুরি বাজারের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলাম। কিন্তু যোগাযোগ করা সম্ভব হলো না। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম ঢাকা ও সিলেটে আমাদেরকে খোঁজ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে আওয়ামীলীগের কিছু কিছু নেতাকর্মী হত্যাকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে নিজ নিজ সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হত্যাকারীরা কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে সকল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হত্যা শুরু করেছে। একটানা প্রত্যেক রাতে কারফিউ জারি করে ঢাকা সিলেট সহ সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মীদেরকে গ্রেফতার শুরু করেছে। কিছু সময়ের মধ্যেই ঘাতকরা তাদের অবস্থান শক্ত করে নেয়। শোক দিবসে আমাদের শপথ হোক আমরা যেন এ বিপদ সংকুল পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী হতে পারি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: সাবেক সভাপতি, বৃহত্তর সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।

(129 বার পড়া হয়েছে)

শুভ জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ॥ পান্না লাল রায় ॥

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত
অভ্যূত্থানম অধর্মস্য তদাত্মানম সৃজাম্যহম
পরিত্রাণায় সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।
-শ্রীমদ্ভাগবত গীতা
সরলার্থঃ ‘যখনই পৃথিবীতে ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যূত্থান ঘটে, তখনই যুগে যুগে আমি ধরাধামে অবতীর্ণ হয়ে সাধুদের পরিত্রাণ করি, দুষ্টদের বিনাশ করি ও সমাজে ধর্ম সংস্থাপন করি।’
krishnaআজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এক প্রলয়ংকারী ঝড় বৃষ্টির রাতে মথুরার রাজা কংসের কারাগারে মাতা দেবকী আর পিতা বসুদেবের অষ্টম সন্তানরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন যুগোপুরুষোত্তম ত্রিলোক পূজিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আগমনে ধরাধাম হয়েছিল পাপমুক্ত, জয় হয়েছিল সত্যের, জয় হয়েছিল ধর্মের।
আজ শুভ জন্মাষ্টমী। শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী ভগবান কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। এই ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবকালটি ছিল খুবই বিভীষিকাময় এক দুঃস্বপ্নের যুগ, ধর্মের জন্য অবমাননাকর, প্রজাপীড়নে মত্ত অত্যাচারী রাজন্যবর্গ মুনি-ঋষিদের ধর্ম অনুশীলনে বিঘœ সৃষ্টি করে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। অত্যাচারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল এদের নাম উল্লেখযোগ্য। মগদরাজ জরাসন্ধ রাজচক্রবর্তী হওয়ার আকাংখায় ৮০জন রাজাকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করে কারাগারে বন্দী করেছিলেন। মথুরাতে মহারাজা উগ্রসেনকে কারারুদ্ধ করে তার পুত্র কংস রাজ্য দখল করেছিল। চেদিরাজ শিশুপাল শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধাচরণ করবেন বলেই যেন সে সময়ে জন্মেছিলেন। ঐ সময়ে ঐ সকল রাজাদের অত্যাচার এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, প্রজাগণ নিদারুণ সঙ্কটে বন্দী জীবন যাপন করছিলেন। ধরিত্রীমাতা এসব অনাচার ও পাপাচারের প্রতিবিধানকল্পে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। শ্রী বিষ্ণু তাদের প্রার্থনার ফল অনুমোদন করে পৃথিবীর পাপভার লাঘব করার জন্য ধরাধামে জন্ম নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। ব্রহ্মার অনুরোধে ভগবান বিষ্ণু দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে এই ধরাধামে আবির্ভূত হতে সম্মত হন। এই যুগ প্রয়োজনেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। বিস্তারিত… (839 বার পড়া হয়েছে)

দৈনিক জালালাবাদ এর ২১ বছর: আলোকিত অভিযাত্রা

আগামী পহেলা আগস্ট ২০১৪ একুশ বছর পূর্ণ করে বাইশ বছরে পা রাখছে সিলেটের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার আলোর দিশারী দৈনিক জালালাবাদ। সে এক আলোকিত অভিযাত্রা। এই বর্ণিল অভিযাত্রা নিয়ে লিখেছেন দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদার।
Eid quadir vaiসংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় প্রায় দু’শ বছরের ঐশ্বর্য ও অহংকারের মহান পিতৃভূমি সিলেট অঞ্চলে আধুনিককালের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র বিকাশের এক অনন্য ও যুগান্তকারী কারিগর দৈনিক জালালাবাদ ২১ বছর পূর্ণ করে ২২ বছরে পা রাখছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের তথা মহান স্বাধীনতার যৌবন ও তারুণ্যের মাঝেই জাতি গঠন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন এবং দেশবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে একাত্ম হয়ে একুশ বছরের যৌবন ও তারুণ্য পেরিয়ে এসেছে দৈনিক জালালাবাদ। তৃতীয় বিশ্বের একটি মাঝারি নগর থেকে একটি আঞ্চলিক দৈনিকের একুশ বছর পূর্তি সংবাদপত্রের ইতিহাসে একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা। বিস্তারিত… (807 বার পড়া হয়েছে)

তাকওয়ার কলস

মনসুর আজিজ

তাকওয়ার কলস পরিপূর্ণ হয় ত্রিশটি রাতের প্রার্থনায়
রাতজাগা পাখি হয়ে জপে যাই ধ্যানের জিকির
নম্রতায় খুলে যায় চোখের পাতা

ঝরা বকুলের শুভ্রতায় ভরে যায় সেহেরির প্লেট
বৃন্তচ্যুত ফুলের মতো দুহাতে জমা হয় মুগ্ধতার অশ্রু
বিÿুব্ধ সমুদ্রের সফর শেষে ক্লান্ত তরী ভিড়ে তীরে
ছিন্ন পালের ভাঁজে জমা হয় অতিক্রান্ত দিনের কড়চা
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে নড়ে ওঠে খেজুরের কোয়া
হরফের গেলাপ খুলে পেয়ে যাই হিকমার খনি

নতুন চরের মতো চাঁদ জাগে আকাশে
প্রশান্ত রাতের শেষে জীবন উঠোনে খেলা করে
একচিলতে তাকওয়ার রোদ। (380 বার পড়া হয়েছে)

স্বপ্নের রঙ

মুহিত চৌধুরী

আমাদের স্বপ্নের রঙগুলো
অদৃশ্য হতে হতে থেকে গেলো
এক টুকরো হলুদ,
যেনো হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত
কোনো এক সুন্দরী যুবতী-
যার গোলাপী ঠোঁটে নেই কোনো উত্তাপ
তীরন্দাজ চোখ দু’টিও স্থির।

কতদিন হলো, আমরা স্বপ্নের সুইমিং পুলে
মাছ মাছ খেলা কিংবা পাটিসাপটা পিঠা
হতে পারিনি।

যে পিদিম থেকে প্রতিদিন স্বপ্ন বিচ্ছুরিত হতো
যে আলোর মিম্বার থেকে প্রতিদিন পাখিরা
উচ্ছ¡াসিত কন্ঠে ভালোবাসার কথা বলতো-
সেই পিদিম, সেই মিম্বার মৃত সভ্যতার বুকে
নিয়েছে ঠাই।

যে ÿিতিজ শষ্য-দানা ফলমুলে আমরা
পরিতৃপ্ত হয়ে হৃদয় থেকে উচ্চারণ করতাম
¯Íুতি বাক্য, সেখানেও আজ হ্যামলকের-
স্থায়ী বসবাস।

এমন দুঃসময়ে তোমার আঁচলে পূর্ণিমা চাঁদ
বেঁধে দেয়ার দুঃসাহস আমি দেখানে পারি না। (327 বার পড়া হয়েছে)

দুঃখতো এমন হয় নিয়মিত

আব্দুল মুকিত অপি
এক.
টেবিলের ফুলগুলো
কী বিবর্ণ অসুখি এখন
দু’দিন আগেও ছিলো
সজীব বাগানে
আমিও ছিলাম তখনÑ
তোমার কাছে।

দুই.
যেদিকে তাকাই, দেখিÑ
সুরম্য প্রাসাদ গড়ছে মানুষ
ইটের উপরে ইট
রডের ভেতরে রড
বসাচ্ছে শ্রমিক
এমন উৎসব ছেড়ে
মৃত্যুকে বলো কী করেÑ
স্বাগত জানাই! (335 বার পড়া হয়েছে)

ঈদ অর্থ খুশি কিন্তু

আখতার উল আলম: 
minarঈদ অর্থ খুশি। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে হাসি খুশির কোনো অ¯িÍত্ব আদৌ আছে কি! তবে সে বিষয়ে বি¯Íৃত কিছু আলোচনার আগে বলে নিতে চাই যে, ঈদ অর্থ খুশি, এই মহাজন বাক্যটার ব্যাখ্যা বিশেøষণ দুইভাবে হতে পারে। এক. বাংলাদেশের পটভূমিতে। দুই ইসলামের ধর্মীয় সামাজিক পটভূমিকায়। বাংলাদেশের পটভুমিকায় প্রথমেই আসে বাজেটের কথা। বাজেটের পটভূমিকা আবার রচিত হয় খরাসহ নানা প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্টি বহুবিধ বিপর্যয় ও দুর্যোগ দ্বারা। অর্থাৎ আবহমান বাংলার যে কোন উপাখ্যানে এই ধরণের আবহমান পটভূমিকায় অহরহ উচ্চারিত হয়, সেই মহাজন বাক্য ‘ঈদ মানে খুশি’। খুশি কি এবারের ঈদে হতে পেরেছে দুর্যোগ বিধ্ব¯Í জনগণ? রোজার অগ্নিমূল্যে দগ্ধীভূত মন ও মেজাজের মধ্যে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ কি কোনো আশ্বাস বয়ে এনেছিল? নাকি প্রতিবারের মতো এবারো ঈদের জামাতের কোলাকুলি মিঠা সুন্নতের আলখেলøা পরে ধুমসে ধর্মীয় জিগির আর বাগাড়ম্বর চালিয়ে গেছে! জাকাত আর ফিতরার ঢাকঢোলে যারা পুলসিরাত পেরোনোর স্বপ্ন দেখছেন, তাদের পথে বাদ সেদে রয়েছে লাখো লাখো হাড্ডিসার মানুষের হাহাকার, লাখো এতিম-মিসকিনের আকুল আর্তি, কোটি বেকারের আরজি-ফরিয়াদ। বিস্তারিত… (503 বার পড়া হয়েছে)

মোবারক হো মাহে রমজান

মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন:
Ahlan-pic-430x300মাহে রমজানুল মোবারকের সিয়াম সাধনা ইবাদত অনুশীলনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ আত্মাই আলøাহর রহমত, বরকত ও মাগফিরাত পাওয়ার যোগ্য। এই মহিমান্বিত ও ঐশ্বর্যমন্ডিত মাস মাহে রমজানের আজ ১৬ তম দিবস। এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাÿরে লেখা রয়েছে বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী দিন হিসেবে। বিস্তারিত… (392 বার পড়া হয়েছে)

মোবারক হো মাহে রমজান

মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন:
Ahlan picআজ মহিমান্বিত রমজানুল মোবারকের পঞ্চদশ দিবস। রমজানের প্রথম দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পর শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশদিন। এই দশ দিনকে মহানবী (সা.) মাগফিরাতের দশ দিন হিসেবে অবহিত করেছেন।
ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ¯Íম্ভ সিয়াম সাধনার আধ্যাত্মিক ও পারলৌকিক গুরুত্ব বিভিন্ন প্রেÿাপটে বিবৃত হয়েছে। মাহে রমজানে আলøাহতালার অফুরন্ত রহমত জমিনে বর্ষিত হয়। রোজাদার সেই রহমতে সিক্ত হবার সৌভাগ্য অর্জন করে। অপরদিকে সিয়াম সাধনাকে আলøাহ রাব্বুল আলামীন খাস ইবাদত হিসেবে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্যে ফরয করে একে সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। হাদিসে কুদসীতে আছে, আলøাহ বলেন, রোজা ব্যতিত প্রতিটি আদম সন্তানের কর্মই তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য। আমিই তার প্রতিদান দেব। ইমাম গাজ্জালী বলেছেন, আলøাহতালার প্রেমে বিভোর হয়ে ও তন্ময় থেকে সুবহে সাদিক হতে সূর্যা¯Í পর্যন্ত পানাহার, কামাচার এবং সকল প্রকারের পাপাচার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাই প্রকৃত রোজা।
হযরত আবু হুরায়রা (র.) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, হযরত রাসুলে করীম (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতকে রমজান মাসে ৫টি বিশেষ বৈশিষ্ট দান করা হয় যা তাদের পূর্বের কোন উম্মতকে দেয়া হয়নি। প্রথমতঃ আমার রোজাদার উম্মতের মুখের গন্ধ আলøাহতালার কাছে মিশকের সৌরভ অপেÿা উৎকৃষ্ট যতÿণ না ইফতার করে। দ্বিতীয়তঃ তাদের জন্যে ফেরেশতাগণ পশু পাখী এমনকি পানির মাছও ইফতারের সময় হওয়া পর্যন্ত ÿমা চাইতে থাকে। তৃতীয়তঃ রমজান মাসে আলøাহতালা বেহেশতকে নতুন নতুন সাজে সুসজ্জিত করে বলেন, যথাশীঘ্রই আমার অনেক বান্দা দুনিয়ার সীমাহীন দুঃখ কষ্ট সহ্য করে তোমাদের দিকে ফিরে আসছে। চতুর্থতঃ রমজান মাসে শয়তানকে শৃংখলিত করা হয় যাতে তারা অন্য সময় যেমন মানুষের ÿতি করতে পারে মাহে রমজানে যেন তেমনটি না পারে এবং পঞ্চমত: রমজানের শেষ রাতে আলøাহতালা ÿমা প্রদর্শন করেন।
সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন হে আলøাহর রাসুল (সা.)! সে রাতটি কি শবে ক্বদর? প্রিয় নবী বললেন না, তা শবে ক্বদর নয়। মজুরদের কাজ শেষ হয়ে গেলেই যেমন মজুরী প্রদান করা হয় সেরূপ আলøাহতালা তাঁর নেক বান্দাদের কৃতকার্যের মজুরী হিসেবে তাদের ÿমা করে দেন। (398 বার পড়া হয়েছে)

আহলান সাহলান মাহে রমজান

মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন: 
Ahlan picসওয়াবের বোনাস নিয়ে প্রতি বছর মাহে রমজান ফিরে আসে মুমিনের কাছে। এ মাস আল কুরআন নাযিলের মাস। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন বান্দারা তাকওয়া ইহসান ও মহব্বতের প্রশিক্ষণ লাভের সাথে সাথে আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ গঠনের অনন্য প্রশিক্ষণও লাভ করে।
একজন মর্দে মুমিনের বিজয়ের মাসের সিয়াম সাধনা ও মাহে রমজানের ফজিলত সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস এখানে তুলে ধরা হচ্ছে: হযরত সালমান ফারেসী (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের সাহাবাদের সম্বোধন করে ভাষণ দিতেন। তাতে তিনি বলেন, হে জনগণ! এক মহাপবিত্র ও বরকতময় মাস তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছে। এ মাসের একটি রাত বরকত ও ফজিলত মাহাত্ম্য ও মর্যাদার দিক দিয়ে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। এ মাসের রোজা আল্লাহতালা ফরজ করেছেন এবং এর রাতগুলোতে খোদার সামনে দাঁড়ানোকে নফল ইবাদত রূপে নির্দিষ্ট করেছেন। যে লোক এ রাতে আল্লাহর সন্তোষ ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোন অ-ফরয ইবাদত সুন্নাত বা নফল আদায় করবে তাকে এজন্যে অন্যান্য সময়ের ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব দেয়া হবে। আর যে লোক এ মাসে ফরয আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের সত্তরটি ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে। এটি এমন এক মাস যে, এর প্রথম দশদিন রহমতের বারিধারায় পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় দশদিন ক্ষমা ও মার্জনার জন্য ও শেষ দশদিন জাহান্নাম থেকে নাজাতের উপায়রূপে নির্দিষ্ট। আর যে লোক এ মাসে নিজের অধীন লোকদের শ্রম মেহনত হালকা বা হ্রাস করে দেবে, আল্লাহতালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে দোজখ থেকে নিস্কৃতি ও মুক্তি দান করবেন। বিস্তারিত… (377 বার পড়া হয়েছে)