24 Oct 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

সিলেটে ভৌতিক বিলে বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

biddutমো. শাফী চৌধুরী
সিলেট জুড়ে প্রদান করা হচ্ছে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকরা বার বার অভিযোগ করেও পাচ্ছেন না সমাধান। সর্বশেষ কোন সমাধান না পেয়ে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল প্রদানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ-২ এর মিরাবাজার অফিস ঘেরাও করেছে গ্রাহকরা। এ সময় অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে গ্রাহকদের বাকবিতন্ডা করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলীর আশ্বাসে তারা ঘেরাও তুলে নেন।
জানা যায়, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাস যাবত ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে আসছেন কর্তৃপক্ষ। অনেকের বিদ্যুৎ বিলে একমাসের ব্যবধানে কয়েক হাজার টাকা বিল প্রদানেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌখিক ভাবে গ্রাহকরা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অভিযোগ করে আসলেও তারা তাতে কোন কর্ণপাত করেন নি। অভিযোগ কারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বিগত কয়েক মাস থেকে মিটারের রিডিংয়ের সাথে কোন মিল না রেখে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা তার প্রতিবাদ করলে কর্তৃপক্ষ থেকে তাদেরকে এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরামর্শ দেন। ডিজিটাল মিটার স্থাপন করলে মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের মিল থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয় তাদের। কিন্তু ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরও সেই আগের মত ভৌতিক বিল প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়াও লাইনম্যান মিটার না দেখে বিদ্যুৎ বিল লিখে থাকেন বলে জানান অভিযোগকারীরা। যার ফলে মাসের পর মাস থেকে এ বাড়তি বিল প্রদান করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
রায়নগর এলাকার শাহজাহান আহমদ জুন মাসের তার বাসার একটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখিয়ে বলেন, জুন মাসে আমার বাসায় ১৭০ ইউনিট বিদ্যুতের বিল প্রদান করা হয়। কিন্তু জুলাই মাসে আমাকে ৯৮৭ ইউনিটের বিল প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কয়েকবার মৌখিক ভাবে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করে আসছি। গত আগস্ট মাসে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম তখন তারা আশ্বস্ত করেছিলেন আগস্ট মাসে বিলে তা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এ মাসেও ঠিক হয়নি।
ভৌতিক বিদ্যুত বিলের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিউবো-২ এর শহরতলীর মুরাদপুর বাইপাস এলাকার গিয়াস উদ্দিন নামে এক গ্রাহক জানান গত তিন মাস ধরে তার বাসায় হঠাৎ করে বড়ো অঙ্কের বিদ্যুত বিল আসা শুরু করে। অথচ তিনি মাত্র একটি ফ্যান আর দুটি লাইট ব্যবহার করেন। তিনি নিয়মিত প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করে আসছেন তাই তার কোনো বকেয়াও নেই। তিনি আরো বলেন বিদ্যুত বিলের কাগজ যারা দিতে আসে তারা তাদের মিটারই দেখে না। মিটার না দেখেই অনুমানের উপর ভিত্তি করে তারা এই বিল দিয়ে যায়। তাদের বলেও কোনো লাভ হয়না, তারা বলে মিটার দেখা আছে। এতে করে তার মতো আরো অনেক গ্রাহককে বাড়তি বিলের কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তিনি জানান, তিনমাস আগে হঠাৎ করে তার কাছে ২২ শত টাকার বিলের কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়। পরের মাসে আবার সাড়ে ৩ হাজার বিল আসবে বলে জানান বিলের কাগজ বিতরণকারী। বাড়তি বিল নিয়ে এসময় তিনি তার সাথে কথা বললে বিল বিতরণকারী জানান, তার পুরোনো বিল জমা রয়ে গেছে, তাই ওগুলো দেয়া হচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন প্রশ্ন তোলেন প্রতি মাসে বিদ্যুত বিল বিতরণকারীদের বিতরণ করা কাগজ দেখে তিনি যেখানে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন সেখানে তার বকেয়া বিল কিভাবে থাকে। এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। তার মতো আশপাশের প্রায় সব গ্রাহকের এই একই অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের মিটারের ছবি তুলে বিদ্যুৎ বিল তৈরী করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাইভেট কোম্পানী মুনসী ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনকে। কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবত তারা বিদ্যুতের মিটারের সাথে কোন সামঞ্জস্য না রেখে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে আসছে। যার কারণে অনেকের মিটারে পূর্বের বিল জমা থেকে যায়। তিনি আরো জানান, অনেক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে দেওয়ার জন্য লাইনম্যানকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন। যার কারণে তারা রিডিং না দেখে লাইনম্যান কম ইউনিটের বিল তৈরী করে দেন গ্রাকদের। যার কারণে মিটারে বিল জমা হয়ে আছে অনেক গ্রাহকের।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি জানান, মুনসী ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনকে বিদ্যুতের ¯œ্যাপিং ও বিলিংয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিলো। তারা ঠিক মত রিডিং দেখে বিল তৈরী না করার কারণে গ্রাহকদের মিটারে পূর্বের অনেক ইউনিট জমে আছে। যার কারণে এক সাথে সব বিল আসার কারণে গ্রাহকদের নিকট তা ভৈৗতিক বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। গস্খাহকরা বলছেন যেহেতু তাদের পক্ষে একসাথে এত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না তাই তা আমরা কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করেন দিবো। (1705 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)