28 Jul 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়মে পিআইসিদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দাখিল করেনি দুদক

জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জের ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ৬১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হলেও পিআইসিদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দাখিল করেনি দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ পিআইসিদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরের দাবী উঠেছে সর্বত্র। এদিকে দুদকের মামলায় পাউবো অফিস গ্রেফতার আতঙ্কে অফিস শূন্য হয়ে পড়েছে। নামকরা ঠিকাদাররা শহর ছেড়ে পালিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে ফসলহারা কৃষকদের দাবী প্রকৃত দায়ীরা যাতে ছাড় না পায় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে পিআইসিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এমন কথা দুদক বলার পর থেকে পিআইসিরা আতংকিত হয়ে পড়ছেন। জানাযায়, সুনামগঞ্জ জেলায় ৪২টি হাওরে ২৩৮টি পিআইসি’র তালিকা প্রকাশ করলেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ২৭০টি পিআইসি’র কথা গণমাধ্যমকর্মীদের মৌখিক প্রকাশ করলেও ৩২টি পিআইসি’র তালিকা গোপন রাখেন । ৩২টি পিআইসি’র বরাদ্দ ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। ২৭০টি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ৮০ কি:মি: বাধঁ ভাঙ্গন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার তথ্য উপস্থাপন করলেও আরও ১০ কোটি টাকা অজানা রয়ে যায়। সব হাওরের ফসল তলিয়ে গেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ এমপির উপস্থিতিতে দুদকের মামলায় গ্রেফতারকৃত সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন ৮০ কি:মি: বাঁধের ভাঙ্গন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ২০ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি উঠে আসে। তার আগে নির্বাহী প্রকৌশলী বার বার ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার তথ্য প্রচার করে আসছেন। খোজঁ নিয়ে জানায়, প্রত্যেকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাধঁ পিআইসি দ্বারা নির্মিত ও মেরামতকৃত অংশ ভেঙ্গেই পানিতে তলিয়ে গেছে সোনালী ফসল। ৪২ টি হাওরে ২৭০টি পিআইসির মধ্যে দেখার হাওরে, শনির হাওর, কালিয়াকুটা, হালির হাওর, আঙ্গারলির হাওর, করচার হাওর, চন্দ্র সোনারতাল, টাংগুয়ার হাওর, নলুয়ার হাওর, শয়তানখালীর হাওর, গজারিয়ার বাধঁসহ সকল বাঁধে পিআইসি’র ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সময় পেরিয়ে গেলেও বাধঁ মেরামত না করায় হাওরগুলো অকাল বন্যা ও সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। কোন কোন পিআইসি এক ইঞ্চি মাটিও ফেলেনি দুর্নীতিবাজরা। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন মাঠ পর্যায়ের শাখা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিল দেয়ার আগেই ১৫% কমিশন গ্রহন করায় বাধঁ মেরামতে মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও তাদের চাপ দেয়নি। ফলে পিআইসিরা মনগড়ামতে মার্চ মাসের শেষের দিকে তড়িগড়ি করে মেরামত কাজ শুরু করে। সামান্য বৃষ্টির পানিতেই কাচা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, হাওরের ফসল যাদের জন্য অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে তাদের মধ্যে পিআইসিরাই বেশী দায়ী। কারণ এমপি’রা তাদের মনোনিত প্রতিনিধি নিয়োগে অবহেলা করেছে। তাদের মনোনিত ব্যক্তিরা পিআইসি’র সদস্য সচিব ও ইউপি সদস্য/সদস্যা/চেয়ারম্যান পিআইসি সভাপতি মিলে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করেছে। আবার অনেক পিআইসি ভালভাবে কাজ করার কারণে হাওর দেরীতে তলিয়ে গেছে। যারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারী অর্থ লুটপাট করেছে এবং সময় পেরিয়ে এমপিরা তাদের মনোনিত প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অকাল বন্যায় ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে জেলার সবক’টি হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ৬১জনকে বিবাদী করে দু’দক মামলা রুজু করলেও রহস্যজনক কারণে এমপিদের মনোনিত মেম্বার-চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিদের আসামী না করায় জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যাদের দ্বারা ফসল তলিয়ে গেলো তাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু পাউবো’র কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে মামলা কেন? যেখানে এমপি’রা সঠিকভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ না দিয়ে নিজেদের পছন্দের লোককে পিআইসি কমিটিতে সদস্য সচিব বানিয়ে সরকারী অর্থ লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার দাবী উঠেছে সর্বত্র। এমপিদের দেয়া প্রতিনিধিরাই বাঁেধর ভাঙ্গা মেরামত ও সংস্কার না করে পিআইসি সভাপতি ও সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগাভাগি করে হরিলুট করেছে। গত ২৯ মার্চ থেকে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে ফসল ডুবির ঘটনা ঘটে। ফসলরক্ষা বাঁধে জেলাসহ দেশের নাম করা ঠিকাদাররা কাজ পান। সময় মতো কাজ না করা এবং কিছু কাজ করে টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করায় ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জোড়ালো দাবী উঠে। এবং সরকার ফসলডুবির ঘটনায় পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালে পাউবো’র তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। দুদকের তদন্ত দল তদন্ত শেষে দুদকের ফারুক আহমদ বাদি হয়ে গত রোববার পাউবো’র কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ৬১ জনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পরই পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন ও ইব্রাহিম ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার বাচ্চু মিয়াকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় সকল ঠিকাদাররাই এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। বাসাবাড়ী কিংবা শহরের কোথাও তাদের খোজঁ মিলছে না। এজাহার থেকে জানাযায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ৮৩টি অসমাপ্ত কাজ নতুন করে দরপত্র ছাড়াই গেলবারের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। ৭৬টি কাজের মধ্যে ৯টি বাঁধের কোন কাজ হয়নি। বাকি কাজ কিছু করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাল্লা উপজেলার কমল চৌধুরী জানান, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের কারণে ফসল ডুবির ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত অপরাধীরা যেন ছাড় না পায়। কারণ তাদের কারণে আমাদের এখন ভিজিএফএর লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এ বক্তব্যে শুধু কমল চৌধুরীর নয় জেলার সকল ফসলহারা কৃষকদের। পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান জানান, থানায় মামলা হলেও তদন্তের দায়িত্ব দুদকের।

(50 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)