20 Nov 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

সিলেট আখাউড়া রেললাইনের স্লিপার রক্ষায় বাঁশ কাঠ

শায়েস্তাগঞ্জ সংবাদদাতা: পূর্বাঞ্চল আখাউড়া-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের আওতাধীন মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী ষ্টেশন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের পশ্চিমে দুই কিলোমিটার দুরত্বে সুতাং রেল সেতু ও পূর্বে ২ কিলোমিটার দুরত্বে খোয়াই নদী রেল সেতুর কাঠের অর্ধেক স্লিপার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও কাঠ। এ রেলপথের ছোট বড় রেলসেতুর লাইন থেকে স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে পারে সে জন্য সেগুলোর ওপর পেরেক ঠুকে ফালি করা বাঁশ ও কাঠ স্থাপন করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ছড়া, খাল ও নদীর উপর রেলসেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুকিতে রয়েছেন এ রুটে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীরা। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে উর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পথ) কর্মকর্তা রুহুল আক্তার খান এ প্রতিনিধিকে জানান, শায়েস্তাগঞ্জে ৯০ নম্বর সুতাং নদীর ওপর প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুতে ১৫০ টি স্লিপার রয়েছে। এছাড়া ৯৮ নম্বর খোয়াই নদীর ওপর প্রায় ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুতে ১৭৫ টি স্লিপার রয়েছে। তিনি আরো জানান, রেলসেতুর নীচে পাকা পিলার ব্রিটিশ ও পাকিস্থান সরকার আমলে নির্মিত। কিন্তু পাকা পিলার গুলো কালক্রমে দুর্বল হয়ে যাওয়াতে অনেক স্থানে ফাটল এবং দেবে যায়। আবার কোন স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রীজ দেবে যায়। এই সেতুর ওপর দিয়ে ঘন্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতীতে ট্রেন চলাচল করে। সেতুটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন বা কেপিআই) মধ্যে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেলজংশনের অদূরে সুতাং ও খোয়াই রেল সেতুর অবস্থান। রেলওয়ের ৯ জন কী-ম্যান (রক্ষনাবেক্ষন কর্মী) সেতুর উপরে নাট-বল্টু লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সঙ্গে নিচের গার্ডারের সংযোগ দেওয়ার কাজ করছেন। এর মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই ও সুতাং ব্রীজে দু জন কী-ম্যান রয়েছেন। বাকি অন্যান্য ব্রীজ গুলো ৭ জন কী-ম্যানের তত্বাবধায়নে রয়েছে। সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত স্লিপারে পেরেক ঠুকে বাঁশের ফালি ও কাঠ লাগানো হচ্ছে। কাজে ব্যস্ত শায়েস্তাগঞ্জের দায়িত্বরত কী-ম্যান নুরুজ্জামান ও আলমগীর বলেন, স্লিপার গুলো মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেলপথের সকল সেতুর অধিকাংশ স্লিপার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ট্রেন চলাচলের সময় ঝাঁকুনিতে নাট-বল্টু খুলে স্লিপার জড়ো হয়ে যায় এবং ব্রীজের নীচে পাকা পিলার দূর্বল হয়ে যাওয়ায় ব্রীজের নীচের পাকা পিলার গুলো নড়াচরা করে। দিনে দুই-তিনবার এসে খুটিয়ে-খুটিয়ে দেখতে হয়। স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে বাঁশের ফালি ও কাঠ দিয়ে স্লিপার গুলো আটকে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচলে যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এই রক্ষনাবেক্ষণ কর্মীরা। ট্রেন চালক নাজমুল হক বলেন, ট্রেন চালানোর সময় রেললাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যদি কোন কারণে রেলসেতুর নীচে পুরাতন পিলার দেবে যায় বা ভেঙ্গে যায় তবে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোন কারনে স্লিপার স্থানচ্যুত হয়ে রেললাইন সরে গেলে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। শায়েস্তাগঞ্জ রেল ষ্টেশনের মাষ্টার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, রেলপথের রক্ষনাবেক্ষনের কাজ তদারকি করা তার কাজ নয়। তিনি শুধু ষ্টেশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই সুতাং ও খোয়াই রেলব্রিজ সহ অন্যান্য ব্রিজের স্লিপার নষ্ট এবং স্লিপারে বাশ ও কাঠ লাগানো হয়েছে তা তার জানা নেই। তিনি বলেন রেলপথের রক্ষনাবেক্ষন এ অঞ্চলে কাজ করেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে উর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী পথ ও পূর্ত বিভাগ। রেলওয়ে উর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) কর্মকর্তা নুরুল আমিন বলেন, মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেলপথের সেতুটি নিয়ে চিন্তা নেই কিন্তু ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ নেই বলে জানান। কাঠের সংকটের কারনে সেতুর নতুন স্লিপার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ব্রীজের নীচে পিলার মেরামত করার দায়িত্ব পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা নুরুল আমিন। তিনি ব্রীজের দুর্বল পিলারের প্রতি অবহেলা করছেন। কিন্তু পথ কর্মকর্তা রুহুল আক্তার খান রেল লাইন ও রেল ব্রীজের কাজ গুরুত্বের সাথে করছেন।

(103 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)