28 Jul 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

পাহাড়ে ১৩০ জনের প্রাণহানি

pahar

এম.ইউ শিমুল, ঢাকা অফিস: টানা প্রবল বর্ষণে দেশের পার্বত্য জেলায়গুলোয় পাহার ধ্বসে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২১ জন ও চন্দনাইশে ৩ জন, রাঙামাটিতে ৪ সেনাসদস্যসহ ৮৯ জন এবং বান্দরবানে ৪ জন নিহত হয়েছেন।এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি বাড়িয়ে দিয়েছে কান্না। এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় এ দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেল নেতারা। এসব এলাকায় ফায়ারসার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, গেল দুইদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। জেলার ডিসি মানজুরুল মান্নান জানান, রাঙামাটি সদরে দুই সেনা কর্মকর্তা ও দুই সেনা সদস্যসহ ১৭ জন, কাপ্তাইয়ে ১৩ জন ও কাউখালীতে ১২ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত ৫৬ জন ভর্তি রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হন। তারা হলেন, মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, করপোরাল আজিজ, সৈনিক শাহীন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র। এছাড়া আহত ৫ সেনা সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, টানা বর্ষণে বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে তিন শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। সোমবার রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কালাঘাটের কবরস্থানের পাশে পাহাড় ধসে রেবা ত্রিপুরা (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। জেলেপাড়ায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েন মা- মেয়ে। তারা হলেন, কামুরননাহার ও সুফিয়া। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে দমকল বাহিনী। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে এক শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন। এছাড়াও পাহারের অন্যান্য স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে পার্বত্য এলাকায় সব ধরণের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। কয়েকহাজার দুর্গত মানুষকে সরকারের খোলা ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি দল ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকা পরিদর্শণ করেছে।
এদিকে পাহাড়ে হতাহতের ঘটনায় ৩৯ জনের প্রাণহানির কথা জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণমন্ত্রণালয়। ঘটনার আকষ্মিকতায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি মায়া। তিনি গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০০ টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত ২০ ও আহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মানুষ জানের চেয়ে মালের মায়া বেশি করে মন্তব্য করে এসময় ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি মায়া বলেন, গত দুইদিন ধরে মাইকিং করা হলেও পাহাড়ের অনেকেই বিষয়টি আমলে নেয়নি। এ কারনে হতাহতের ঘটনা বেড়েছে।

(65 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)