20 Nov 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

বজ্রপাত অব্যাহত

গত বর্ষা মৌসুমে এমনকি বর্ষা শেষ হওয়ার পরেও বজ্রপাতে সিলেট অঞ্চলসহ গোটা দেশে কয়েকশ লোক নিহত হন। এবারও ব্যাপকভাবে ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। শুধু মাত্র গতকাল দেশের ৭ জেলায় ২ ভাইসহ ১৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা একটি আতংক সৃষ্টিকারী সংবাদ। দেখে গেছে, ভূমিকম্পে মানুষ মারা যেতে কিছুটা সময় লাগে কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যু হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে। বলা যায়, মাত্র একটি আলোর ঝলকানি ও প্রচন্ড শব্দ। এরপর সব কিছু শেষ। এমনকি দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মজবুত পাকা ঘরে অবস্থান করেও বজ্রপাতের হাত থেকে রেহাই পাননি অনেকে। তা সত্বেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক ও ভয়ানক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কিংবা এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে বহুলাংশে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
বছরের একটি সময়ে বিশেষভাবে বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঘটনা বেশী ঘটে। কখনো কখনো ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ অর্থাৎ অনেকটা ভালো আবহাওয়ায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। গত বছর শরৎকালেও বজ্রপাতে বেশ কিছু লোকের প্রাণহানি হয়েছে এদেশে। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা অত্যন্ত বজ্রপাত প্রবণ অঞ্চল। এখানে সবচেয়ে বেশী বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা প্রান্তর, ক্ষেত, নদী ইত্যাদি স্থানে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়িঘর ও ভবনপূর্ণ শহরাঞ্চলের চেয়ে বেশী ঘটে। অনেকের ধারণা, শহর বা নগরীর বৈদ্যুতিক খুঁটি, টাওয়ার, ভবন ইত্যাদি বজ্রপাতের বিদ্যুতকে টেনে নেয়।
এতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হলেও মানুষের জীবন রক্ষা পায়। এছাড়া অনেক টাওয়ার ও ভবনে বিদ্যুৎ নিরোধক ব্যবস্থা থাকায় এগুলো বজ্র বিদ্যুৎ টেনে বা শুষে নেয়, আর্থিংয়ের প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ মাটির নীচে চলে যায়। গাছপালা বিদ্যুৎ টেনে নেয়। বিশেষজ্ঞরা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে বা আবহাওয়া খারাপ হলে উন্মুক্ত মাঠ, প্রান্তর বা ক্ষেতে কাজ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়া বজ্রপাতের সময় কোন গাছের নীচে আশ্রয় না নিয়ে নিকটস্থ কোন মজবুত পাকা গৃহে বা ভবনে আশ্রয় নেয়া উত্তম। বজ্রপাতে কোন আহত বা দগ্ধ হলে তাকে তৎক্ষনাৎ হাসপাতালের ইমার্জেন্সী বা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা দরকার।
এ অবস্থায় প্রতিটি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বার্ণ ইউনিট স্থাপন জরুরী। বর্ষা মৌসুম এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। তাই এখন থেকেই বজ্রপাতের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকলের সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। বজ্রপাতের জন্য চৈত্র ও বৈশাখ মাস একটি বিপজ্জনক সময়। তাই প্রতি বছর এ সময় আসার আগেই সবাইকে সচেতন হওয়া আবশ্যক। কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব। এখন থেকেই শহরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রনিরোধক প্রযুক্তি স্থাপন ও এর ব্যবহার চালু করতে হবে।

(168 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)