24 Oct 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়নি সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

খালেদ আহমদ:  
Sylhet Eng collegeসিলেটবাসীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ছায়া সুনিবিড় মনোরম পরিবেশে টিলাগড় ইকোপার্ক এলাকায় অবস্থিত সিলেটের এই সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিলেট বিভাগ উন্নয়নের রুপকার সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের স্বপ্নের এই কলেজটি আজো আলোর মুখ দেখেনি। সম্ভাবনাময় এ প্রতিষ্ঠানটি সিলেট প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের প্রক্রিয়াটি অদ্যাবধি ফাইলবন্দী। সচেতন সিলেটবাসী মনে করেন সরকারের সদিচ্ছার অভাব থাকায় কলেজটি এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হতে পারেনি। দলমত নির্বিশেষে সমগ্র সিলেটবাসীর দাবী সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ সিলেট সফরে এসে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবুও আলোর মুখ দেখছে না ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং বিজ্ঞানাগার থাকা সত্বেও শুধুমাত্র জনবলের অভাবে সবগুলো বিভাগ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে তিনটি বিভাগ চালুর কথা থাকলেও বর্তমানে শুধুমাত্র কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু রয়েছে। সরেজমিন কলেজে গিয়ে রেজিষ্টার মোহাম্মদ সেলিম এর সাথে কথা বলে পাওয়া যায় এমন তথ্য। তিনি জানান, কলেজে মূলত তিনটি বিভাগের পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন এবং বিজ্ঞানাগার রয়েছে। বিভাগগুলো হচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। কিন্তু শিÿক এবং জনবল সংকট থাকায় বর্তমানে শুধুমাত্র কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু রয়েছে। এ বিভাগ দিয়েই শুরু হয়েছিলো কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। শুরুতে মাত্র ৬০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হয় শিÿা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে এ বিভাগের দুটি ব্যাচে কোর্স সম্পন্ন করে বের হয়ে গেছে। বর্তমানে এ বিভাগে ২১৭ জন শিÿার্থী অধ্যয়ন করছে। চারটি বর্ষের এ শিÿার্থীদের প্রায় সকলেই কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে।
জানা যায়, নগরীর টিলাগড় ইকোপার্ক এলাকায় ৮ একর ভূমি নিয়ে ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভিত্তি প্র¯Íর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তিন বছর পর ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি শুরু হয় একাডেমিক কার্যক্রম। মাত্র ৬০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে বিশাল এ প্রতিষ্ঠান শিÿা কার্যক্রম শুরু করে। শুরুর দিকে সিলেটী শিÿার্থীদের সংখ্যা কম হলেও বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ১৫% বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে কলেজে ছোট বড় ১৫টি ভবন রয়েছে। রয়েছে শিÿক কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, মসজিদ, গ্রন্থাগার আর সকল বিভাগের সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার। কলেজে অন্তত ৫০০ জন শিÿার্থীর আসনের সুবিধা থাকলেও অদ্যাবধি এ কোটা পূরণ হয়নি।
কলেজের তিনটি বিভাগের বিজ্ঞানাগারগুলোতে রয়েছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। শুরু থেকেই তালাবদ্ধ এ ল্যাবগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সরঞ্জামাদি। এগুলো ব্যবহার না করায় জং ধরে অনেক মেশিন যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ল্যাবগুলো। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। সংরÿণেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। কলেজ কর্তৃপÿ জানিয়েছেন টেকনিশিয়ান এবং পর্যাপ্ত জনবল, সেই সাথে এগুলো ব্যবহারের কোন সুযোগ না থাকায় সহজেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যত শীঘ্রই অন্য বিভাগগুলো চালু হবে কলেজের জন্য তত মঙ্গল হবে। শিÿার্থী থাকলেই ল্যাবগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এখন পর্যন্ত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ডেপুটেশনে অধ্যÿ থেকে শুরু করে সকল শিÿক, রেজিষ্টার এবং কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ করছেন। সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর অধ্যÿ প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার বসু কলেজের অধ্যÿ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। কলেজের রেজিষ্টার হিসেবে মোহাম্মদ সেলিমকে শুরু থেকেই ময়মনসিংহ থেকে এনে ডেপুটেশনে দায়িত্ব দেয়া হয়। অদ্যাবধি তিনি ডেপুটেশনেই দায়িত্ব পালন করছেন। একই অবস্থা কলেজের একমাত্র বিভাগ কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর সকল শিÿকবৃন্দের। স্থায়ী জনবল না থাকায় নানান সমস্যায় পড়তে হয় শিÿার্থীদের। তবে খুব শীঘ্রই স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগ হতে পারে বলে কলেজের রেজিষ্টার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। আগামী বছর থেকেই তা কার্যকর হবে বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে বলে জানতে পেরেছি। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ২০১৪-১৫ শিÿাবর্ষে আরো দুটি বিভাগ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগীয় শিÿক নিয়োগ হলেই কেবলমাত্র ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রজেক্ট ফাইলে পাঁচ শিÿাবর্ষের পর সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সিলেট প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের কথা রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার নয়টি বছর পেরিয়ে গেলেও কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়নি। এ নিয়ে সচেতন সিলেটবাসীর মনে ÿোভ দানা বাঁধছে। সচেতন সিলেটবাসী জানিয়েছেন শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ আর সরকারের সদিচ্ছার অভাব থাকায় কলেজটি আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়নি। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যÿ প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার বসু দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করার মত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। পর্যাপ্ত ভবন, বিজ্ঞানাগার অবকাঠামোগত অবস্থান আছে। তবুও কেন কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, এটি সিলেটবাসীর সম্পদ। এ জনপদের মানুষের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানকে রÿা করার দায়িত্বও সিলেটবাসীর। এ ব্যাপারে সিলেটবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানান তিনি। তিনি বলেন, কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে হলে তিনটি বিভাগেই শিÿা কার্যক্রম চালু করতে হবে। বিভাগগুলো চালু করতে হলে শিÿা মন্ত্রণালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিতে হয়। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দিলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় শিÿা মন্ত্রণালয় অনুমতি দেয়নি। হয়তো আগামী শিÿাবর্ষে সব কটি বিভাগ চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সরকারের আমলেই এটি প্রতিষ্ঠা করা হোক না কেন কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে এবং সবগুলো বিভাগ চালু করতে সরকার আন্তরিক। এ ব্যাপারে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং শিÿামন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে নগরীর দরগাহ গেইট রাজারগলি এলাকার বাসিন্দা মোঃ মুহিবুর রহমান বলেন, সিলেটের কৃতি সন্তান সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান সিলেটকে কারিগরি শিÿায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লÿে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। সিলেটবাসীও এ কলেজ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ÿমতায় আসার পর এ কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করেনি। আমি মনে করি এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী ও শিÿামন্ত্রী আন্তরিক নন। তিনি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করে সিলেটবাসীর স্বপ্নের বা¯Íবায়ন করতে অর্থমন্ত্রী ও শিÿামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সিলেটের বিশিষ্ট শিÿাবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকী বলেন, সিলেটে অনেকগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও নেই। এটি দুঃখজনক। সিলেটের শিÿার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করবেন। কিন্তু অদ্যাবধি তা বা¯Íবায়িত হচ্ছে না। তিনি এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী ও শিÿামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। (871 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)