24 Oct 2017 : সিলেট, বাংলাদেশ :     |Bangla Font Error | Login |

কে এই আল্লামা শাহ আহমদ শফী

allamashafi copy
জালালাবাদ ডেস্কঃ নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিসহ ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সা¤প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বহুল আলোচিত হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা শাহ আহমদ শফী। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে রাসূল সা: ও ইসলাম অবমাননার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সবার নজরে আসে। ইসলাম ও রাসূল অবমাননার সাথে জড়িত ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ব্যাপক জনসমাগমে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদী অবস্থান, মানববন্ধন, উপজেলা পরিষদ ঘেরাও এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু কর্মসূচি পালিত হওয়ার পর দেশের সব জেলা থেকে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে আজ।
দেশের উলামা-মাশায়েখদের মধ্যে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রবীণ এই আলেম হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রয়েছেন। উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি দীর্ঘ দিন ধরে। বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এবং বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বেও তিনি রয়েছেন। শায়খুল ইসলাম হজরত মাওলানা হুসাইন আহদ মাদানী রাহ:-এর অন্যতম খলিফা আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। তিনি ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ১৩৫১ হিজরি সনে বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে এক অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনদার আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। শরফভাটা মাদরাসায় প্রাথমিক কিতাব পাঠ করেন। এরপর আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে পাঁচ-ছয় মাস অধ্যয়ন করেন। ১৩৬১ হিজরিতে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে ভর্তি হন। এখানে এসে তিনি একাধারে ১০ বছর কৃতিত্বের সাথে উর্দু, ফার্সি, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ ইলমে নাহু, ইলমে সরফ, ইলমে ফিকাহ, মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), ফালসাফা (দর্শনবিদ্যা), বালাগাত (অলঙ্কারবিদ্যা) প্রভৃতি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে সম হন।
দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীতে তিনি মিশকাত শরিফ, জালালাইন শরিফ ও কাজী মুবারক ইত্যাদি কিতাব পড়া শেষ করেন। এরপর ইলমে হাদিস ও ইলমে তাফসিরের উচ্চতর শিক্ষা হাসিল করার অদম্য বাসনা নিয়ে ১৩৭১ হিজরি সালে ছুটে যান ইসলামি শিার প্রাণকেন্দ্র, দ্বীনি বিদ্যানিকেতন দারুল উলুম দেওবন্দে। দারুল উলুম দেওবন্দে হজরত ফুনুনাতে আলিয়া, দাওরায়ে হাদিস, দাওরায়ে তাফসিরের কোর্স অধ্যয়ন করেন।
দেওবন্দে অধ্যয়নকালে তিনি যাদের সংশ্রবে ধন্য হন, তাদের মাঝে প্রথমেই উল্লেখ্য শায়খুল আরব ওয়াল আযম, আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লামা হুসাইন আহদ মাদানী রাহ:-এর নাম। দেওবন্দে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই এই মহা মনীষীর হাতে বাইয়াত গ্রহণকরত খেলাফতপ্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি তার পরম হিতাকাক্সী ওস্তাদ জামিয়ার তৎকালীন মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্ আবদুল ওয়াহ্হাব রাহ:-এর সাথে সাাতে মিলিত হন। আল্লামা আবদুল ওয়াহ্হাব রাহ: তার উচ্চরিত্র মাধুরী, অসংখ্য গুণাবলির দ্বারা ভূষিত জ্ঞান-প্রজ্ঞা, পাণ্ডিত্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, উৎকৃষ্ট বোধশক্তি, সততা, উদারতা, আত্মত্যাগ, ইখলাস ও দায়িত্ব সচেতনতা সর্বোপরি ইলমের গভীরতা অবলোকন করে অত্যন্ত বিমোহিত হন। ফলে অত্র জামিয়ার শীর্ষ পদে হজরতকে নিয়োগ দান করেন। ১৪০৭ হিজরি সালে তদানীন্তন জামিয়ার মহাপরিচালক হাফেজ কারি আল্লামা হামেদ রাহ: পরলোক গমন করলে জামিয়ার সর্বোচ্চ মজলিসে শূরার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামিয়া পরিচালনার গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয় শাহ্ আহদ শফীর ওপর।
তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষতায় যোগদান করেন এবং বিগত ২৭ বছর ধরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের সাথে দীর্ঘ দিন যুক্ত থাকার কারণে সারা দেশে তার রয়েছে লাখ লাখ ছাত্র, মুরিদ, ভক্ত ও খলিফা। কওমি ধারার ৪০ হাজার মাদরাসার প্রায় প্রত্যেকটির শিক্ষকতা ও পরিচালকের পদে রয়েছে তার অগণিত ছাত্র। এ ছাড়াও তার শত শত খলিফা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আরো লাখ লাখ ভক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে দেশের সর্বত্র এবং বহির্বিশ্বের অনেক স্থানেই। দেশের ওলামা-মাশায়েখ এবং ইসলামি রাজনীতির সাথে জড়িত শীর্ষ আলেমদের মধ্যে সমবয়সী দুই-একজন ছাড়া প্রায় সবাই তার ছাত্র, মুরিদ অথবা ভক্ত। তাই ইসলাম ও মুসলমানদের যেকোনো সঙ্কটে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহŸানে পারস্পরিক মতভেদ থাকলেও সবাই ছুটে যান তার কাছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে কখনো জড়াননি। তবে ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের প্রয়োজনে সাড়া দিতেও কখনো দেরি করেন না। এ কারণে বহুধাবিভক্ত ইসলামি নেতৃবৃন্দের ঐক্যের প্রতীকও বলা হয় আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে। এ কারণে শক্তিশালী কোনো সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়াও তার আহŸানে আজ সারা দেশ জাগরিত। ইসলাম ও ঈমান-আকিদা রক্ষার তাগিদে ঢাকায় লংমার্চে অংশ নিয়েছেন সারা দেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ। (5791 বার পড়া হয়েছে)

(Visited 1 times, 1 visits today)